
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৈধ-অবৈধভাবে পরিচালিত বিভিন্ন ম্যানপাওয়ার এজেন্সির বিরুদ্ধে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠছে। এসব এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ, আকামা (রেসিডেন্সি পারমিট) ও বেতন না পেয়ে অনেক প্রবাসীকে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে। এতে বিদেশ যেতে নেওয়া ঋণের বোঝা নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে তাদের পরিবার।
এমনই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শাহিন আলম। তার অভিযোগ, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার লয়াল ম্যানপাওয়ার এজেন্সির(RL2065) মাধ্যমে তিনি কুয়েতে যান। বিদেশ যাওয়ার আগে তাকে ভালো বেতন, বৈধ আকামা ও নির্ধারিত কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে কুয়েতে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ ও বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
শাহিন আলম বলেন, দীর্ঘ প্রায় সাত মাস নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে কুয়েতে অবস্থান করার পর কোনো উপায় না পেয়ে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। বিদেশ যাওয়ার জন্য ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ায় বর্তমানে সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। সংসারের নিত্যদিনের খরচ চালাতেও তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিদেশে গিয়ে কাজ ও বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় তার পুরো পরিবার এখন চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। বিদেশ যাওয়ার সময় যে স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
শাহিন আলমের মতো আরও অনেক প্রবাসী কর্মী একই ধরনের সমস্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে পাঠানোর আগে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হলেও বিদেশে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ, বেতন কিংবা বৈধ কাগজপত্র দেওয়া হয় না। ফলে অনেক কর্মী ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে লয়াল ম্যানপাওয়ার এজেন্সির বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং হুমকি ও গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী পরিবারগুলো এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, প্রতারিত কর্মীদের অর্থ ফেরত এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply